১৪ বছরের স্কুলছাত্রীকে বিয়ে চেয়ারম্যানের, নির্বিকার প্রশাসন

কুড়িগ্রামে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ইউপি চেয়ারম্যান। তৃতীয় বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ওই চেয়ারম্যান।

উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। সরকার বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করার পরও একজন ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই কিভাবে বাল্যবিয়ে করেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দোলন গ্রামের প্রতিবন্ধী বাচ্চু মিয়ার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বকসীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর (১৪) ওপর নজর পড়ে বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারের।

এরপর ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং হতদরিদ্র মেয়েটির পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখাতে থাকেন। রবিবার রাতে মেয়েটির পরিবারের লোকজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিয়ে দেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারের স্ত্রী ও কলেজপড়ুয়া এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে এর আগে তিনি আরও একটি বিয়ে করলেও সেটি বেশিদিন টেকেনি। চেয়ারম্যানের তৃতীয় বিয়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।

উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, যেহেতু বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর সুযোগ নেই

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ছে বাল্যবিয়ে

করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে। বিশেষত মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়ার হার বাড়ছে, বেড়ে যাচ্ছে বাল্যবিয়ে। এমনিতেই বাল্যবিবাহের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তারওপর গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে এ হার বেড়েছে ২২০ শতাংশ পর্যন্ত। বিশিষ্টজনেরা আশঙ্কা করছেন, স্কুল খুলতে দেরি হওয়ার সঙ্গে এই সমস্যাগুলোও বাড়তে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে অনেক বাবা-মা কন্যাশিশুটিকে নিজের কাছে রাখতে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে গ্রাম ও শহরে কন্যাশিশুকে লুকিয়ে বিয়ে দিচ্ছেন অনেক অভিভাবক। ফলে দেশে ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে বাল্যবিয়ে।

বাল্যবিয়ের শাস্তি

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে তা হবে একটি অপরাধ। এজন্য তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ডের টাকা না দিলে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ৭ (২) ধারায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে সে এক মাসের আটকাদেশ বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির শাস্তি

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা, অভিভাবক অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি আইনগতভাবে বা আইনবহির্ভূতভাবে কোনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো কাজ করলে অথবা করার অনুমতি বা নির্দেশ প্রদান করলে অথবা স্বীয় অবহেলার কারণে বিয়েটি বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে তা হবে একটি অপরাধ। সেজন্য তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে আরও তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে।

বাল্যবিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনা করার শাস্তি

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বাল্যবিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনা করলে তা হবে একটি অপরাধ। এজন্য তিনি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের শাস্তি

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করলে তা হবে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ না করলে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনটি ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যাবে। অর্থাৎ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ে আইনের শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে।

১৪ বছরের স্কুলছাত্রীকে বিয়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *