হিন্দু যুবককে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের বিহার রাজ্যে হিন্দু যুবককে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় গুলনাজ খাতুন নামে এক মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সতিশ নামে এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করতে না চাওয়ায় তিন যুবক গুলনাজকে অপদস্ত করে ও গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে একটি গর্তে ফেলে দেয়। মেয়েটির আর্তচিৎকার শুনে তার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এর ১৭ দিন পর মেয়েটি মারা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, বিহারের বৈশালী জেলার দেশরী থানা এলাকার রসুলপুর হাবিব গ্রামে।

জানা গেছে, গুলনাজ খাতুন নামে এক তরুণীকে সতীশ কুমার নামে এক ব্যক্তি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তিনি অস্বীকার করেন। দু সপ্তাহ আগে সতীশ ও তার দুই সঙ্গী মিলে গুলনাজকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। ৭৫ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রবিবার তার মৃত্যু হয়।

গুলনাজের মৃত্যুর কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানানোর পর তার পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মৃত ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই পরিবারের সদস্যরা পাটনার রাস্তায় লাশ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রতিবাদের চিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর তা সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি ওঠে।

গুলনাজের মা মাইমুনা খাতুন জানান, সতীশ তার মেয়েকে বিয়ে করতে চাপ দিচ্ছিল, যেহেতু তার মেয়ে মুসলিম তাই ভিন্নধর্মীর সঙ্গে বিয়েতে সম্মতি ছিল না। তখন তারা ২৯ অক্টোবর হত্যার হুমকি দেয়। পরদিন ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টার দিকে গুলনাজ রাস্তার পাশে বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলতে গেলে তার গায়ে করোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে হাসপাতালে পৌঁছায় পুলিশ। রাত দশটার দিকে অগ্নিদগ্ধ তরুণীর অভিযোগ রেকর্ড করে। সেই অভিযোগ অনুসারে জানা যায়– সতীশ কুমার, চন্দন কুমার এবং বিনয় কুমার ওই তরুণীর কাছে এসে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করে। সে নিজেকে তাদের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করলে ওই তিনজনের মধ্যে একজন তার পকেট থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে তার গায়ে ঢেলে দেয়। এরপর দেশলাইয়ের কাঠি জ্বেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়েটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। তখন ওই তিনজন পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাজীপুরের সম্প্রভু হাসাপাতলে ভর্তি করে। এরপর তাকে পাটনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই রবিবার তার মৃত্যু হয়।

গুলনাজের মা বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছে। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

তিন বলেন, আমরা বিচার চাই। আমার মেয়ে ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছে। আমরা অসহায়, কাপড় সেলাই করে বেঁচে আছি। সে কারণেই ওরা মেয়েটিকে পুড়িয়ে মেরেছে। আর চার মাস পর ওর বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের সঙ্গে মেয়েটির কথা কাটাকাটি হয়। তবে তাকে নিপীড়ন করা হয়েছিলো কিনা তা আরো তদন্ত করলে জানা যাবে।

পুলিশ দাবি করে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে দেরি হচ্ছে।

বৈশালির এসপি মনিশ বলেন, মেয়েটির বয়স ১৯-২০ বছর। সে তিন জনের বিরুদ্ধে তাকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চাওয়ার অভিযোগ করেছে। গত রবিবার সে মারা গেছে। ৩০ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটলেও এফআইআর দায়ের করা হয় ২ নভেম্বর।

এসপি আরো জানান, মেয়েটির অভিযোগ মতো তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরা হলো সতিশ, তার পিতা ও চাচাতো ভাই চন্দন

মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *