সীমান্তে সেনা ঘাঁটিগুলোতে বিপুল পরিমাণে রসদ পাঠিয়েছে চীন

ভারতের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা চলার কারণে প্রত্যন্ত হিমালয় অঞ্চলের সেনা ঘাঁটিগুলোতে বিপুল পরিমাণ রসদ পাঠিয়েছে চীন । সেনারা যাতে কঠিন শীতের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় রসদ পাঠানো হয়।

তীব্র তুষারপাত শুরু হওয়ার আগে শেষ ব্যাচে হাজার হাজার টন পণ্য বোঝাই কয়েক হাজার হেভি ট্রাক হিমালয় অঞ্চলে গিয়েছে বলে সিসিটিভির খবরে বলা হয়।

তুষারপাতের কারণে হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সীমান্তের সেনা ঘাঁটিগুলোতে রসদ পৌছে দিতে হিমালয়ের বিপজ্জনক পথ ধরে ট্রাকগুলো দিন-রাত ভ্রমণ করে।

হিমালয়ান গ্যারিসনের সেনারা যাতে আগামী বসন্ত পর্যন্ত কোনরকম অসুবিধায় না পড়ে সে লক্ষ্যে সপ্তাহ-ব্যাপী এই রসদ পাঠানোর বিপুল কর্মযজ্ঞ চলে।

রিপোর্টে বলা হয়, প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, সীমান্ত সেনারা একটি উষ্ণ শীতকাল কাটাবে।

রসদ নিয়ে ট্রাকগুলো সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদু থেকে তিব্বতের রাজধানী লাসাকে সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়ক জি৩১৮ ধরে ২,১০০ কিলোমিটার পথ পারি দেয়। তিব্বতকে চীনের কেন্দ্রস্থলের সঙ্গে যুক্তকারী বড় রুট হলো এটি।

পিপলস লিবারেশন আর্মির ট্রাকবহর ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত সিচুয়ান অববাহিকা থেকে ৪,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত তিব্বত মালভূমিতে পৌছে।

হিমালয়ের আকাবাঁকা বন্ধুর পথ ধরে ট্রাকগুলো তিব্বত পৌছে, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। দ্রুত অক্সিজেন কমে যাওয়া, ঘনঘন পাথর ধস, প্রায় খাড়া হয়ে নেমে যাওয়া গিরি খাদের কিনারা ঘেষে তৈরি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ট্রাক অচল হয়ে রাস্তা বন্ধ হওয়ার মতো ঝুঁকি থাকার পরও কোনরকম বড় দুর্ঘটনা ছাড়াই মিশন সম্পন্ন করে ট্রান্সপোর্ট কোর।

মে মাসের শুরুর দিকে হিমালয় অঞ্চলে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। তখন থেকে চীন ও ভারত দুই পক্ষই সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করছে। ফরোয়ার্ড এলাকায় বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে। কিন্তু শীত চলে আসায় এই দীর্ঘ সংঘাত সেনাদের টিকে থাকার কঠিন খেলায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ পার্বত্যভূমির ওই অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায়। অক্সিজেনের মাত্রা কমে, কোথাও কোথাও অক্সিজেন প্রায় থাকেই না।

পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পিএলএ জরুরি ভিত্তিতে টাইপ-২০ উইন্টার কিট উদ্ভাবন ও বিতরণ করে। সেনাদের মধ্যে গ্রাফিনের তৈরি স্মার্ট সেল্ফ-হিটিং ভেস্ট বিতরণ করা হয়েছে।

পিএলএ সৌরশক্তি চালিত স্থায়ী আবাস তৈরি করেছে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে এক ডজনের বেশি গভীর কূপ খনন করেছে।

শীতে যেন নজরদারি বন্ধ না থাকে সে লক্ষ্যে চীন ড্রোন মোতায়েন করেছে। এগুলো সেনাদের কাছে রসদ পৌছে দেয়া, সীমান্তে টহল, নজরদারি ও সশস্ত্র রেকি’র কাজও করতে পারবে

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ: উচ্চভূমিতে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ড্রোন

সীমান্তে সেনা ঘাঁটিগুলোতে বিপুল পরিমাণ রসদ পাঠিয়েছে চীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *