ভারতীয় গুপ্তচর যাদবের দণ্ডাদেশ রিভিউয়ের বিল অনুমোদন করেছে পাকিস্তান

ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদবের দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার সরকারী বিলে অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আইন ও বিচার বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই বুধবার এই অনুমোদন দেয়া হয়।

পাকিস্তানে গোয়েন্দাবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদের দায়ে একটি সামরিক আদালত যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

বিলের বিরোধিতা করে কমিটির পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) দলের সদস্যরা এই বিলকে ভারতীয় গোয়েন্দার জন্য একটি এনআরও হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

এনআরও’র অর্থ হলো ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশান অর্ডিন্যান্স। পাকিস্তানের সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ তৎকালিন নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতাদের এনআরও’র প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেটার অধীনে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতার মামলাগুলো বাতিল করা হয়।

বিতর্কে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ফারোগ নাসিম বিলের ব্যাপারে বিরোধীদের সমালোচনা নাকচ করে দেন। এই বিলের শিরোনাম হলো ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (রিভিউ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশান) অর্ডিন্যান্স’। তিনি বলেন ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) নির্দেশনা অনুসরণ করেই এটা করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, পার্লামেন্ট যদি এই বিলটি গ্রহণ না করে, সে ক্ষেত্রে আইসিজের রায় না মানার দায়ে পাকিস্তান নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে।

জেইউআই-এফ দলের আলিয়া কামরান বলেন, “আপনারা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভ্রান্ত করেছেন: কোন ভারতীয় গোয়েন্দার জন্য আইন তৈরির জন্য এখানে আমরা বসিনি। এই বিলটি জনগণের সামনে এবং বার অ্যাসোসিয়েশানের সামনে উপস্থাপন করা উচিত। এই আইনটি অপ্রয়োজনীয় কারণ সাবেক প্রধান বিচারপতি নাসিরুল মুলক তার রায়ে বলেছেন যে, সাংবিধানিক আদালত সামরিক আদালতের এই রায়ের রিভিউ করতে পারবে”।

পিপিপি দলের সাইয়েদ নাভিদ কমর বলেছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে সরকার যাদবকে সামরিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দিচ্ছে, যে সুযোগটা এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকরাও পায় না। তিনি বলেন, “এটা একজন ভারতীয় গোয়েন্দাকে এনআরএ দেয়ার সমতুল্য এবং আমরা এই বিলের বিরোধিতা করি”।

আইন মন্ত্রী বলেছেন, তার মন্ত্রণালয় আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে যাতে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইসিজে’তে কোন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে না পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত বা যাদব কেউই ইসলামাবাদের হাই কোর্টে কোন আবেদন দাখিল করেননি।

পরে আইন মন্ত্রণালয়কেই ভারতীয় গোয়েন্দার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগের জন্য আবেদন করতে হয়, যে বিষয়ে আদেশ এখনও হয়নি।

পার্লামেন্টারি কমিটিতে আটজন বিলের পক্ষে এবং পাঁচজন এর বিপক্ষে ভোট দেন।

সূত্র: ডন

ভারতীয় গুপ্তচরকে তৃতীয় কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেবে পাকিস্তান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *