বাকস্বাধীনতা আর অবমাননা কি সমান? প্রশ্ন খামেনেয়ীর

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-কে অবমাননা করার বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন যে অবস্থান নিয়েছেন তার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেশটির তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

সর্বোচ্চ নেতা ফরাসি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা আপনাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করুন কেন তিনি একজন আল্লাহর রাসূলকে অবমাননা করার পক্ষে অবস্থান নিলেন?” খামেনেয়ী বলেন, ফ্রান্সের তরুণদের উচিত তাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করা যে বাকস্বাধীনতা আর আল্লাহর রাসূল এবং একজন পবিত্র মানুষকে অবমাননা করা কি সমান বিষয়?

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সর্বোচ্চ নেতা এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলে, ফ্রান্সের যেসব মানুষ ম্যাক্রনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন ম্যাক্রন সেই সব মানুষকে তার এই বোকামিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত অপমান করেছেন।

সম্প্রতি স্যামুয়েল প্যাটি নামে ফ্রান্সের একজন স্কুল শিক্ষক ক্লাসরুমে বাকস্বাধীনতার নামে মহানবী (স)’র একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন করে। এরপর ১৮ বছর বয়সী এক চেচেন তরুণ ওই শিক্ষককে হত্যা করে। এ ঘটনাকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ইসলামের সংকট বলে উল্লেখ করে বলেন, সারা বিশ্বে ইসলাম এখন সংকটের মধ্যে রয়েছে।

তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, এই ধরনের কার্টুন ছাপানো ফ্রান্সে কখনোই বন্ধ হবে না। পাশাপাশি তিনি একথাও বলেন, যে তরুণ ফ্রান্সের ওই শিক্ষককে হত্যা করেছে সে মূলত উগ্রবাদের কারণে নয় বরং তার ঈমানের অংশ হিসেবে এটি করেছে। ইমানুয়েল ম্যাক্রন এ সমস্ত কথা বলে মূলত ইসলাম এবং পুরো মুসলিম বিশ্বকে অপমানিত করেছেন।

এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্যের পর মুসলিম বিশ্বে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বিরোধের জেরে তুর্কিদেরকে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন তিনি।

টিভিতে এক বক্তব্যে এরদোগান ফ্রান্সে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন চললে তাদের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ব নেতাদেরকেও আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এই টিভি ভাষণে এরদোগান বলেন, ফরাসি-লেবেল লাগানো পণ্যকে কখনও বাহবা দেবেন না, কিনবেন না।

তিনি বলেন, মুসলিমরা এখন ইউরোপে সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ইহুদিদের ওপর নিপীড়নের মতোই নির্বিচার অভিযানের শিকার হচ্ছে। ইউরোপীয় নেতাদের উচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে এই ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান বন্ধ করতে বলা।

ফ্রান্সের এই ঘটনায় মুসলিম দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে জনগণকে ফরাসি পণ্য চিহ্নিত করার উপায় বাতলে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা। বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যেই কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেটের সেলফ থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফরাসি পণ্য বর্জনের দাবিতে টুইটার হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *