বাংলাদেশে ফিরতে চান ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা

বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে থাকা এককালের ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা ছিলেন কমলেশ্বর রায়। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে নতুন একটা যুগের শুরু হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে রায় ভারতের অধিবাসী হন। কিন্তু তার উচ্ছ্বাস খুব একটা স্থায়ী হয়নি।

পাঁচ বছর পর রায়সহ ভারতীয় ছিটমহলের শত শত বাসিন্দা – যারা তাদের ‘মুক্তি’ আর ‘রাষ্ট্রহীন’ অবস্থা অবসানের উদযাপন করেছিলেন, তারা এখন তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করছেন এবং এখন তারা বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। তারা বলছেন, বাংলাদেশে থেকে গেলে তাদের জীবন আরেকটু ভালো হতো।

স্থানীয় লোককথায় এই ছিটমহলগুলোকে কোচবিচারের মহারাজা আর রংপুরের মহারাজার মধ্যে দাবা খেলার সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যারা তাদের রাজ্যের ছোট ছোট অংশ নিয়ে জুয়া খেলতো। কোচবিহার এখন ভারতে এবং রংপুর বাংলাদেশে পড়েছে। দাবা খেলায় এই গ্রামগুলোকে নিয়ে তারা বাজি ধরতেন। এরই পরিণতিতে একজনের অঞ্চল অন্য জনের এলাকার মধ্যে ঢুকে গেছে।

এই ছিটমহলগুলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আর ভারত আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়েও টিকে ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর, তার বাসিন্দারা যে যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে যায়। ফলে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশের অধিবাসী হয়ে ওঠে।

৫১টি বাংলাদেশী ছিটমহল – যেগুলো এখন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের অংশ হয়েছে, সেখানে যে ১৪,৮৫৬ জন মানুষ বাস করতো, তারা সবাই ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে যে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল হস্তান্তর করা হয়েছে, সেখানকার ৯২২ জন মানুষ বাংলাদেশে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছিলো।

রায় আর তার ১৪ সদস্যের একান্নবর্তী পরিবার এই ৯২২ জনের মধ্যে পড়েছে, যারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ৪০ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং সাত দশকের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ তখন ছিটমহল বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

‘রাষ্ট্রহীন মানুষ’ থেকে একটা ‘রাষ্ট্রের মানুষ’ হওয়ার এই পরিবর্তন নিয়ে তাদের যে স্বপ্ন ও আশা ছিল, সেটা এখন পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। পুরোপুরি হতাশ এসব লোকজনকে তিনটি সেটলমেন্ট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে, যেগুলো অনেকটাই কারাগারের মতো। এই ক্যাম্পগুলো রয়েছে পশ্চিম বঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি আর মেকলিগঞ্জ এলাকায়। এই মানুষগুলোর কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তারা সরকারের দেয়া ছোট্ট দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে থাকে, যেটা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেয়া হয়েছে।

কাগজপত্রে অনেক ভুল রয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও অনেক সমস্যা তৈরি করেছে। “আমার ভাইদের মধ্যে চারজন আমাদের পরিবারকে নিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। পরে ভাইদের মধ্যে একজন তার পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে ভারতে এসে আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের তিন ভাই আর বাবা-মা সবাইকে একটি পরিবার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে”, হলদিবাড়ি সেটলমেন্ট ক্যাম্প থেকে এই তথ্য জানালেন রায়।

কাগজপত্রের ভুল সংশোধনের জন্য গত পাঁচ বছর ধরে পিলার থেকে পোস্টে দৌড়াদৌড়ি করেছেন রায়, কিন্তু কোনই লাভ হয়নি। তিনি এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও দ্বারস্থ হয়েছেন। “সরকার যেহেতু আমাদের পুনর্বাসনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাই তাদের অন্তত উচিত আমাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো, যেখানে আমরা আমাদের সম্পত্তি ফেলে এসেছি এবং আমাদেরকে দেয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম”, বললেন রায়। তিনি এখন কৃষক হিসেবে তার দুই বিঘা জমিতে (পশ্চিম বঙ্গে এক বিঘা জমি হলো ১৪,৪০০ বর্গফুট) কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্থানীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই জমি কিনেছেন তিনি।

জীবিকার অভাব

রায় একা নন। সুজন বর্মনও তার বয়স্ক বাবা-মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে বাংলাদেশের ছিটমহল থেকে ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এখন তার মোহভঙ্গ ঘটেছে। দিনহাটা সেটলমেন্ট ক্যাম্পে গত পাঁচ বছর ধরে বাস করে আসছেন তিনি। মাত্র গত মাসে পশ্চিম বঙ্গ সরকারের দয়ায় দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট পেয়েছেন তিনি।

তিনি বললেন, বাংলাদেশে তার পরিবারের এখনও সাত বিঘা জমি রয়েছে। “বাংলাদেশে আমাদের অবস্থা অনেক ভালো ছিল। এখানকার সরকার আমাদের কর্মসংস্থান করতে পারেনি এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেখান থেকে তারা পিছু হটেছে”।

দিনহাটার স্থানীয় কলেজের শিক্ষার্থী বর্মন বলেন, “যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বেছে নিয়েছেন তাদের জীবিকার সুযোগটা অনেক ভালো। বাংলাদেশ সরকার সাবেক ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে উন্নয়নের কাজও হাতে নিয়েছে। আমাদের পরিবার যেহেতু সেখানকার জমিজমা এখনও ছাড়েনি, তাই আমরা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়াকেই ভালো মনে করি”।

তবে বর্মন ও রায়ের মতো যারা জমিজমা পেছনে রেখে এসেছেন, তারা ফিরে গিয়ে সেগুলো পুনরায় দাবি করতে পারবেন, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। যদিওবা সেটার দাবি তারা করতে পারেন, কিন্তু সেখানে ফিরে যাওয়ার মতো সম্পদটুকুও এখন তাদের কাছে নেই, বললেন সাবেক পোয়াতুরকুঠি ছিটমহলের বাসিন্দা ও বর্তমানে বিলুপ্ত ভারত বাংলাদেশ এনক্লেভ এক্সচেঞ্জ কোঅর্ডিনেশান কমিটির সাবেক সদস্য রহমান আলী।

‘নোহয়্যার পিপল’ থেকে ‘নোহয়্যার ল্যাণ্ড’

সাবেক বাংলাদেশী ছিটমহলগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ মধ্য মশালডাঙ্গা ছিটমহল – যেটি মশালডাঙ্গার অংশ – সেখানকার গ্রাজুয়েট বাসিন্দা জয়নুল আবেদিন বললেন, পশ্চিম বঙ্গ সরকার তাদেরকে যে অস্থায়ী ভূমি চুক্তির কাগজপত্র দিয়েছিল, সেগুলো ভুলে ভরা।

“বৈধ কোন ভূমি চুক্তির কাগজপত্র না থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মালিকানা ছাড়া ভূমির কারণে তারা কৃষি ঋণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, আলু বন্ড এবং খামার প্রণোদনা – কিছুই পাচ্ছেন না। আমাদের আসল সমস্যা হলো আমাদেরকে এখনও জমির মালিকানার স্থায়ী কোন কাগজপত্র দেয়া হয়নি”, ব্যাখ্যা করলেন আবেদিন।

ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভূমির রেকর্ডগুলো নেয়া হয়েছে মূলত কোচবিহারের এককালের মহারাজার রেভিন্যু রেকর্ড থেকে। “সাত দশক ধরে সাবেক ছিটমহলগুলোতে জমি নিবন্ধনের জন্য কোন প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না, সে কারণে জমির লেনদেন হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে হয় মৌখিক দর কষাকষির মাধ্যমে বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে”, বললেন তিনি।

ছিটমহল এবং ক্যাম্পের বাসিন্দারা যদিও স্বীকার করেছেন যে, পশ্চিম বঙ্গ সরকার বেশ দ্রুততার সাথেই ভোটার ও আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড দিয়েছে, কিন্তু তারা এটাও বলছেন যে, এই কার্ডগুলো ভারতীয় নাগরিকের সুবিধা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

তবে, ছিটমহলের শিক্ষিত তরুণদের জন্য শুধু নাগরিকত্ব পেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না।

সাবেক এই ছিটমহলগুলোর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করছে নাগরিক অধিকার সংগঠন মাসুম। এই সংগঠনের একজন কিরীটি রায় বললেন, এই মানুষেরা পুরোপুরি নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছে।

কিরীটি রায় বলেন, “সরকারের উদাসীনতার কারণে ল্যাণ্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট (এলবিএ) বাস্তবায়নের আগে এই মানুষগুলোর সামান্য যা কিছু ছিল, সেটাও তারা হারিয়েছে। এলবিএ-তে যে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে, সেটা চরম বৈষম্যমূলক একটা প্রক্রিয়া, এবং এটার কারণে এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে নলকূপগুলোতে পানি নেই, জব কার্ড পেশার ক্ষেত্রে অকার্যকর, আধার কার্ড দিয়ে কোন পরিচয় মিলছে না, এবং ভোটাধিকারও তাদেরকে কোন জাতীয় পরিচয় দিতে পারছে না”।

২৯ বছর বয়সী রহমান একজন কর্মহীন যুবক। সে কোচবিহারের লেখাপড়া করেছে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। টিউশনি করে সে কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করছে। রহমান আর আবেদিনের মতো অনেক তরুণই অভিযোগ করেছে যে, কর্মসংস্থানের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে বাংলাদেশ সরকার তাদের মতো ছিটমহলের অনেক শিক্ষিত তরুণদেরকে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্বাসিত করেছে।

“বাংলাদেশে যারা রয়ে গেছে, তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আমরা যখন শুনি যে, সরকার সেখানে তাদের এলাকাতে অনেক উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছে, তখন আমাদের হতাশা শুধু বেড়েই যায়,” দুঃখের সাথে বললেন বর্মন।

“আমরা ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা ছিলাম এবং সবসময় আমাদের এই অনুভূতি ছিল যে, আমরা ভারতীয়। কিন্তু এখন ভারতে পাঁচ বছর থাকার পর আমরা বুঝতে পারছি যে, আমরা ভারতীয় নই। এখানকার প্রশাসন আমাদের ব্যাপারে বৈষম্য করছে,” আরও বললেন বর্মন।

আর রহমান বললেন, “আমরা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছি। আমরা মন আর শরীরের দিক থেকে ভারতীয়। কিন্তু, এখন নিজের দেশেই আমরা চরম অনাহুত হয়ে উঠেছি”।

এনআরসি’র খড়গ ঝুলছে

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) হুমকি তো রয়েছেই। রাশিদুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে কিরীটি রায় বলেন, “ছিটমহল ও সেটলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দাদের কার্যকর ভূমির অধিকার নেই, তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ফলে পশ্চিম বঙ্গে এনআরসি বাস্তবায়নকালে এদের কী হবে সে প্রশ্ন আমাদের মনে।”

ইসলাম ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়াকে বেছে নিয়েছিলেন। যদিও তার পিতামাতা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারীতে তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি আঁকড়ে থাকাকেই বেছে নেন। গ্রামের অন্যদের সঙ্গে তাকে একটি আধার ও রেশন কার্ড দেয়া হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ডও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিন বছর আগে যখন সে কাজের খোঁজে দিল্লী যায় তখন দেখে এসব কার্ড মূল্যহীন।

২০১৭ সালের ১৮ আগস্ট দিল্লী পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং তিন মাস জেলে রাখে। পরে ইসলামসহ ৩৫ জনকে সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।

কিরীটি রায় বলেন, “দশকের পর দশক লড়াই করার এসব মানুষ এখন মনে করে তারা প্রতারিত হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সাবেক ছিটমহল বাসীন্দারও যে একই পরিণতি হবে না তার গ্যারান্টি নেই।”

কোন কাগজপত্র বা ভারতীয় নাগরিকত্বের কোন প্রমাণ না থাকায় এনআরসি বাস্তবায়নকালে কি হবে সেই চিন্তায় অস্থির সুজন বর্মন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে থাকবো নাকি আটক কেন্দ্রে যাবো সেটা জানি না।”

ভোট-ব্যাংক যুদ্ধের ঘুঁটি

তবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিষয়ক পশ্চিম বঙ্গের মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ দাবি করেন যে সাবেক ছিটমহল বাসিন্দাদের পুনর্বাসন-সংশ্লিষ্ট সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “জমির কাগজপত্র নিয়ে কিছু সমস্যা ছিলো সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমরা সাবেক ছিটমহল বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দিতে পারি না। তবে তারা যেন কাজ পায় সে জন্য আমরা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।” তবে মন্ত্রীর এসব দাবিকে জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

৯২২ অভিবাসীর ভূমির দাবি প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন এটা মানা যাবে না। তিনি বলেন, “তাদেরকে দেয়ার মতো জমি কোথায়? ভারতে অভিবাসী হওয়া এসব লোকদের দেয়ার মতো কোন জমি পড়ে নেই।” এর মানে হলো এসব সমস্যার কোন সমাধান নেই।

মন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে দিয়ে আবেদিন বলেন, রাজনীতি করে সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দা ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দাদের আলাদা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ আছে, যারা ক্ষমতাসীন মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত, তারা কাজ পাচ্ছে। আমরা ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন না করলে কোন কাজ পাবো না।”

আবেদিনের কথায় সায় দিয়ে রহমান বলেন, “সাবেক ছিটমহল বাসিন্দারা এখন তৃণমূল ও বিজেপি’র ভোট-ব্যাংক যুদ্ধের ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছে।”

ছিটমহলের বেশিরভাগ মানুষ উত্তর বঙ্গের আদিবাসী রাজবংশী গোত্রের। এরাই কোচবিহার রাজ্যের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ। জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ মুসলমান, তারাও রাজবংশী। “জাতিগত পরিচয় উপেক্ষা করা যাবে না,” যুক্তি রহমানের

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *