পাকিস্তানে ধর্ষককে নপুংসক করতে আইন পাস

পাকিস্তানে ধর্ষককে রাসায়নিক ইনজেকশন দিয়ে নপুংসক করতে আইন পাস এবং যৌন হয়রানি মামলায় দ্রুতবিচার আদালতের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ধর্ষণ–দমন অধ্যাদেশের খসড়া মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করেন পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এব্যাপারে এখনো সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করেনি পাকিস্তানের সরকার। খসড়ায় পুলিশে বেশি সংখ্যক নারী নিয়োগ, দ্রুত বিচার আদালত বসানো এবং সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইমরান খান এটাকে গুরুতর বিষয় বলে উল্লেখ করে বলেছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। এব্যাপারে কোনো গাফিলতি তিনি বরদাস্ত করবেন না। আইন দ্রুত পাস হয়ে কড়াভাবে প্রয়োগ হবে বলে মন্তব্য করেন ইমরান।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, নির্যাতিতারা নির্ভয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা এবং পরিচয় গোপন রাখার দায়িত্ব সরকারের।

সূত্র জানায়, ধর্ষণে দোষীদের জনসম্মুখে ফাঁসি দেওয়ারও সুপারিশ করেছিলেন কিছু ফেডারেল মন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাস্ট্রেশন শুরু হবে।

ফেডারাল মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে ধর্ষণে দোষীদের জন্য কঠোর শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ-সভা পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শিবলি ফরাজ বলেছেন যে, ধর্ষণ-বিরোধী অধ্যাদেশকে নীতিগত অনুমোদনের পরে মন্ত্রিসভা আইন বিভাগ এবং অন্যান্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলকে এ সংক্রান্ত খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। অপরাধীরা সুবিধা নিতে পারে এমন সব আইনি ত্রুটিগুলোও অপসারণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সিন্ধুতে সম্প্রতি এক মা ও তার মেয়ের ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পরে আইনমন্ত্রী ফারোগ নাসিমকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের একটি ব্যাপক অধ্যাদেশ প্রস্তুত করতে বলেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেহেতু এই অধ্যাদেশটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জড়িত তাই আরও উন্নতির জন্য আইন বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগ সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

শাসকদলের সদস্য ফয়জল জাভেদ খান বলেন, দ্রুত পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এই অধ্যাদেশ পেশ করা হবে। ‌

পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান টিভি নিউজ চ্যানেল জিও টিভি জানিয়েছে, দেশে ক্রমবর্ধমান যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণের ঘটনা রুখতে সরকার বাধ্য হচ্ছে এই ব্যবস্থা নিতে। এ ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে প্রথার সাহায্য নেয়া হচ্ছে তার নাম ক্যাস্টাসইজেশন। এই প্রথায় রাসায়নিক ইনজেকশন প্রয়োগ করে চিরতরে পুরুষত্ব বিলোপ করা যায়। বহু দেশে নাবালিকা ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও পাকিস্তানের নেয়া এই সাজা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তানে ধর্ষককে নপুংসক করতে আইন

পাকিস্তানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলো আলেমদের সংগঠন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *