চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ: উচ্চভূমিতে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ড্রোন

চীন-ভারত যখন হিমালয় অঞ্চলে সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে ব্যস্ত তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ড্রোনের ভূমিকা। উচ্চভূমিতে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ড্রোন (আনম্যানড এরিয়েল ভেহিকেল)।

ইতোমধ্যে ভারত সরকার ইসরায়েলের কাছ থেকে আরো হেরন ড্রোন কেনার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির শপিং লিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিডেটর বি ড্রোনের নামও রয়েছে বলে ভারতীয় মিডিয়া জানায়।

এদিকে, কয়েক মাস ধরে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) চলা বিরোধের সময় চীন ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে বেইজিং গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতার ছবি প্রকাশ করে, যেগুলো সম্ভবত ড্রোন দিয়ে তোলা হয়েছে।

চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ: উচ্চভূমিতে যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ড্রোন

সামরিক বিশ্লেষক ঝাউ চেনমিং বলেন, মানুষ যেতে পারে না এমন জায়গায় ড্রোন সহজেই যেতে পারে। যেসব এলাকায় টহল দেয়া যায় না সেখানে নজরদারি চালাতে পারে ড্রোন। তার মতে, ড্রোনের ক্ষেত্রে মান ও সংখ্যা উভয় দিক দিয়ে অসুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে ভারত।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান ড্রোন সরবরাহকারী হলো ইসরাযেল। এর হেরন ও সার্চার মডেলগুলো নজরদারি ও আঘাত হানার কাজে ব্যবহৃত হয়। হারপিস ও হ্যারোপস মডেল ব্যবহার করা হয় এন্টি-রেডিয়েশন মিশনে।

৮.৫ মিটার (২৮ ফুট) লম্বা মাঝারি-উচ্চতায় উড্ডয়নক্ষম ও দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম (এমএএলই) হেরন ড্রোন ১৫০ কেজি ভার বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার। এগুলো ৫২ ঘন্টা পর্যন্ত টানা উড়তে পারে। সর্বোচ্চ ১০,০০০ মিটার উচ্চতায় উঠতে পারে।

এর তুলনায় সার্চার উঠতে পারে মাত্র ৬,১০০ মিটার উচ্চতায়। এর মানে, পৃথিবীর ছাদে এগুলোর তৎপরতা চালানোর সুযোগ সীমিত।

যেখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালার অবস্থান তার হাজার হাজার মাইল জুড়ে এলএসি বিস্তৃত। এখানে পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৪,০০০ মিটার। কোন কোন চূড়া ৮,০০০ মিটারের উপরে। তাছাড়া ড্রোন ওড়ার জন্য আবহাওয়াও অত্যন্ত বিরূপ।

ভারতের ৭০টির মতো হেরন ড্রোন রয়েছে। ২০১৮ সালে দোকলামের কাছে এলএসি অতিক্রম করে ভারতের হেরন ড্রোন চীনে ঢুকে পড়ে। আগের বছরও এমন ঘটনা ঘটে। তবে সেবারের মডেলটি শনাক্ত করা যায়নি।

তারা এখন এমএএলই অ্যাটাক ড্রোন—রুস্তম ও রুস্তম-২ উন্নয়ন করছে। তবে কোনটিই সার্ভিসে যুক্ত হয়নি।

অন্যদিকে চীন হলো বিশ্বের অন্যতম ড্রোন নির্মাতা ও রফতানিকারক। পিপলস লিবারেশন আর্মির বহুল ব্যবহৃত ড্রোন হলো জিজে-২ নজরদারি/হামলা মডেল।

পিএলএ’র হাতে কতগুলো জিজে-২ আছে তা জানা যায় না। তবে এমন ৪৮টি ড্রোন পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করেছে চীন। এগুলোর রফতানি সংস্করণের নাম উইং লুং-২।

জিজে-২ হলো ১১ মিটার লম্বা এমএএলই। এর ভারবহন ক্ষমতা ৪৮০ কেজি। এটি ১২টি মিসাইল বা বোমা বহন করতে পারে, ছুটতে পারে ঘন্টায় ৩৮০ কিলোমিটার গতিতে। তবে ক্রুজিং স্পিড ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার। এগুলো ৯,০০০ মিটার উচ্চতায় উঠতে পারে। ফলে এগুলো হেরনের চেয়ে বড়, দ্রুত ও ভালোভাবে অস্ত্র সজ্জিত।

পিএলএ জিজে-২ ছাড়াও সিএইচ-৪ নামে বড় আকারের নজরদারি/হামলায় সক্ষম ড্রোন মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালে এসব ড্রোন তিব্বতের মালভূমিতে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বিশেষভাবে পার্বত্য এলাকার জন্য তৈরি করা বিজেকে-০০৫সি ২০১৭ সালে লাসা বিমানবন্দরে দেখা যায়।

বিজেকে-০০৫সি ড্রোন ডিজাইন করা হয়েছে নরম মাটির রানওয়েতে নামার উপযোগী করে। এটি ৩০০ কেজি ভার বহন করতে পারে।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে তিব্বত অঞ্চলে তাজা গোলা বর্ষণের মহড়ায় অংশ নেয় ড্রোন। বড় আকারের যুদ্ধ ড্রোন ছাড়াও চীনের কাছে আরো অনেক ধরনের ড্রোন রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টিভির ফুটেজে দেখা যায়, উচ্চ ভূমিতে নাইট পেনিট্রেশন এক্সারসাইজে মাত্র ২০ সেন্টিমিটার আকারের ছোট কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু টার্গেট করতে লাইটওয়েট ড্রোন ব্যবহার করে আর্টিলারি ব্রিগেড।

খাবার, ওষুধ ও গোলাবারুদ পরিবহনের কাজেও ড্রোন ব্যবহার করে পিএলএ

ঝাউ বলেন, ভারতের সংগ্রহ প্রক্রিয়া খুব ধীর। তাছাড়া ড্রোন সংখ্যাও হাতে গোনা। অত্যাধুনিক ড্রোন সস্তা নয়। শুধু চীনের গুলোই সস্তা। ফলে ড্রোন দিয়ে সীমান্তে চীনে সঙ্গে ভারত সুবিধা করতে পারবে না।

সূত্র: সাউথ চায়না মনিং পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *