অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আর নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আর নেই । হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। শুক্রবার রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

শত নাগরিক জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব কবি আবদুল হাই শিকদার এমাজউদ্দীন আহমদের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এমাজউদ্দীন আহমদ শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

১৯৯২-৯৬ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ সর্বশেষ ইউনির্ভাসিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) উপাচার্য ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ পেটের অসুখ দেখা দিলে এমাজউদ্দীন আহমদকে দ্রুত ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বেশ বমি হচ্ছিল। সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী সেলিমা আহমদ ২০১৬ সালেই মারা গেছেন। অধ্যাপক দিলরুবা শওকতা আরা ইয়াসমিন ও অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন তাদের দুই মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে জিয়া হাসান ইবনে আহমদ সরকারি কর্মকর্তা, তানভীর ইকবাল ইবনে আহমদ একজন চিকিৎসক।

এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। ভারত ভাগের পর তার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

এমাজউদ্দীন আহমদ খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং গবেষক-পর্যালোচক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসনব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শতাধিক গ্রন্থ লিখেছেন। দেশ-বিদেশের জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সৃজনশীল লেখার জন্য তিনি দেশে ও বিদেশে সম্মানিত হন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে তিনি একুশে পদক পান।

এমাজউদ্দীন আহমদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ‘গোহাল বাড়ি’ এলাকায় পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করেন। তিনি শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজের ছাত্র। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এবং উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এমাজউদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু শোক জানিয়েছেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী পৃথক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছেন।

বাদ জুমা এমাজউদ্দীন আহমদের বাসার পাশে কাটাবন ঢালের জামে মসজিদে প্রথম জানাজার নামাজ হবে। এরপর বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আর নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *